গতকাল ৮ জানুয়ারি বুধবার ভয়েস চট্টগ্রাম মাল্টিমিডিয়ায়, চট্টগ্রামের শস্যভান্ডারখ্যাত রাঙ্গুনিয়া গুমাইবিলে ফসলি জমির মাটি বিক্রির চলছে মহোৎসব শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর। গুমাই বিলে অভিযান পরিচালনা করেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল বুধবার বিকাল ৫টায় নাগাদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজাইন হোসাইন সরাসরি সরেজমিন পরিদর্শনে ছুটে যান। সেসময় কৃষি জমির টপ সয়েল কাটার অপরাধে অপরাধে মাটি কাটার সিন্ডিকেট প্রধান ইসমাঈল সিকদারকে “বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০”- মূলে ৫০ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃহত্তর শস্য ভান্ডারখ্যাত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুমাই বিলের ফসলি জমির চাষাবাদে মাটির উর্বরাশক্তি টপ সয়েল কমে পরিবেশের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃস্টি হচ্ছে। যেখানে সরকারের পক্ষে বারবার তাদিগ দেয়া হচ্ছে গৃহ দালান বা ইট- পাতরের স্থাপনা-নির্মাণ নিষিদ্ধের কিন্তু সেখানে ততই বেড়েছে গুমাই বিলের কৃষি জমিতে দালান নির্মাণ। সম্প্রতি গুমাই বিলের কৃষি জমিতে সম্প্রতি গড়ে উঠেছে বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্টান বৌদ্ধ মহা ধাতু চৈত্য-নামে বিশাল বিহার কমপ্লেক্স। ইদানিং সেই বিহারের পাশ ঘেঁষে নির্মিত হচ্ছে আরো কয়েকটি দালান। এভাবে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে দালানের পর দালান কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোন বাধানেই, বরং উপরি ঢুকছে পকেটে বলে পরিবেশ প্রেমীরা বলছে। পরিবেশবাদী সংস্থা- বেলা” বলছে, প্রতিটি নির্মাণ কাজ প্রশাসনের চোখের সামনে হচ্ছে। উনারা দেখতে পাচ্ছেননা কারণ উনারা টাকার মোহে অন্ধকার হয়ে গেছেন। প্রশাসনের বৈরী মনোভাবের কারনে দিনদিন ক্রমশ ছোট হচ্ছে চট্টগ্রামের শস্য ভান্ডার গুমাই।
রাঙ্গুনিয়ার কৃষি অফিসের সুত্রমতে জানাযায়, ভৌগলিক ভাবে এ বিলের উত্তর-পূর্বাংশে হোসনাবাদ ইউনিয়নের নিশ্চিন্তাপুর, কানুরখীল। উত্তরাংশে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের আন্ন সিকদার পাড়া, ইসলামাবাদ, মজুমদারখীল। দক্ষিণে মরিয়মনগর ও চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়ন। পূর্বে বনগ্রাম এবং পশ্চিমে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা।
বৃহত্তর এ বিলের দক্ষিণাংশে কাপ্তাই রোড ও পশ্চিমে ডিসি রোড সংলগ্ন ফসিল জমি ভরাট করে তৈরি করা হচ্ছে আবাসন ও বাণিজ্যিক দালান। পূর্বাংশে গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটা এবং চলছে ইটের রমরমা বানিজ্য।
সাম্প্রতি ক’ দিনধরে দেখা যাচ্ছে, এক শ্রেণীর মাটি ব্যবসায়ী ফসলি জমির মাটি স্কেভেটর দিয়ে কেটে ইট ভাটায় কাঁচামাল জোগান দিচ্ছে। গুমাই বিলের উত্তরাংশের ইসলামাবাদ ও মজুমদারখীল গ্রামের পাশের জমি থেকে স্কেভেটর দ্বারা শুরু হয়েছে মাটিকাটা। আইন অমান্যকারীরা ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে অবৈধ অর্থ রোজগারের উপায় অবলম্বন করলেও প্রশাসনের চোখে পড়েনা। ফলে ফসলি জমির উর্বরাংশের মাটি কর্তনে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্র রাঙ্গুনিয়ানিয়ার প্রধান ফসলি জমি ধ্বংস হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এ ব্যাপারে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মডেল শাখা, পৌরসভা শাখা ও রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
গুমাইবিল ধ্বংসযজ্ঞের উৎসব বন্ধে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরী হস্তক্ষেপ জরুরী।



