মহা ক্ষমতাধর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব এ কে এম সামছুদ্দিন আজাদ। শিক্ষা বোর্ডে যার ভয়ে মুখ খুলে না কেউ, তাহার অনিয়মই যেন বোর্ডের নিয়ম।
চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে নাওগাঁ সরকারী কলেজ থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসে যোগদানের কয়েকদিন পর বোর্ডের কয়েকজন লেবাসধারী দুনীতিবাজ বিসিএস কর্মকর্তাসহ কতিপয় সহযোগী সিন্ডিকেট গঠন করে বোর্ডের তহবিল তছরুপসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এদিকে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী সচিবের এই ধরণের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে সন্ত্রাসী দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁহার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনুমতিবিহীন বোর্ডের গাড়ী নিয়ে নিজ জেলা ফেনীতে চলে যায়। ২০২৫ সালে আন্তঃবোর্ড ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় আপ্যায়ন সহ বিভিন্ন কমিটির আহ্বায়ক হয়ে সচিব লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। আপ্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক হয়ে আপ্যায়ন ও হোটেল ভাড়া দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নিজের পকেটে ভারী করারও অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা বোর্ডের যে কোন অনুষ্ঠানে সচিব সব সময় আপ্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক হতে জয়। এ ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানের আহবায়ক হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে। সচিবের উপর কেউ কথা বলতে পারে না। প্রতিবাদ করলে লেলিয়ে দেওয়া হয় সন্ত্রাসী ও বিসিএস শিক্ষক সমিতির দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের, এমনকি মব ও অপহরণের শিকার হতে হয়েছে অনেককে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সচিব এ কে এম সামছুদ্দিন নিজেকে ক্ষমতাধর সাজাতে কিছুক্ষণ বিএনপি আবার কিছুক্ষন জামায়াত বলে দাবী করে। সম্প্রতি ফেনী জেলা বিএনপির দলীয় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে আসন গ্রহণ করার ছবিও রয়েছে। বিসিএস শিক্ষক সমিতির একটি অংশকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকান্ডে তাদের দিয়ে বাঁধা সৃষ্টি করাই হলো তার কাজ। অফিসের কার্যক্রমের সব সময় ভুল করে। একটি অফিস আদেশ কয়েকবার সংশোধন করতে হয় সচিবের ভুলের কারণে।
এ বিষয়ে বিসিএস শিক্ষক সমিতির একটি অংশ বলেন, সচিব এ কে এম সামছুদ্দিন কলেজে চাকুরীকালীন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সব সময় দলাদলীতে ব্যস্ত থাকতেন এবং শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং করাই হলো তার কাজ।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সেবাপ্রার্র্থীদের দাবী এই সচিব শিক্ষা বোর্ডে থাকলে দুর্নীতিবাজরা আরো শক্তিশালী হবে, সেবা প্রার্থীরা ন্যায় বিচার পাবে না। শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রমে সকলের আস্থা চলে যাবে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অফিস চলাকালীন তার অুনগত কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে অফিস শৃঙ্খলাবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন। বোর্ডের টেন্ডার তার অনুগত্যদের দিয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং দুই পয়সা পাওয়ার জন্য অবৈধ পন্থায় তার নিজস্ব লোককে কাজ পেতে সহায়তা করেন। সচিবের ক্ষমতা দেখিয়ে শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন শাখায় অনৈতিক তদবীর করেন। শিক্ষা বোর্ডে ইতিমথ্যে বড়ধরনের যে সব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সচিব টাকার বিনিময়ে অপরাধীর পক্ষ হয়ে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিটির আহ্বায়কদের বশে এনে অপরাধীদের পক্ষে প্রতিবেদন দিতে বাধ্য করেন এবং টাকার বিনিময়ে অপরাধীর পক্ষে কাজ করে থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, সচিব সামছুদ্দিন চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বিভিন্ন অপকর্মের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আপীল এন্ড আরপিটেশন কমিটি থেকে সচিব নিজেকে উপস্থাপন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বরখাস্তকৃত শিক্ষকদের থেকে কাজ করে দেওয়ার কথা বলে অবৈধ পস্থায় ঘুষ গ্রহণ করেন। বেশি করে টাকা পাওয়ার জন্য সচিব সভার আহ্বান না করে মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখেন।
চট্টগ্রাম কলেজ সূত্রে জানা যায়, সচিব সামছুদ্দিন আজাদ চট্টগ্রাম কলেজে চাকুরীরত অবস্থায় তিনি বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। নিজামপুর কলেজ সূত্রে জানা যায়,সচিব সামছুদ্দিন আজাদ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলো বলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবীর মুখে তাকে নিজামপুর কলেজ থেকে বদলী করা হয়। বোর্ডের সম্মান রক্ষার্থে শিক্ষা বোর্ড থেকে তাকে প্রত্যাহার করে শাস্তির আওতায় আনতে চট্টগ্রামের শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সকল সচেতন নাগরিকের জোর দাবি করছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।



