Voice Chattogram

Voice Chattogram

ইটভাটা বন্ধ হলে ব্যাহত হবে উন্নয়নমূলক কাজ, বেকার হতে যাচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিক

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মশক্তি হল ইট ভাটার শ্রমিকরা।সারাদেশে সাড়ে চার হাজার ইটভাটা রয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়।এরই অংশ হিসেবে বান্দরবান পার্বত্য জেলার ৭ উপজেলায় ৭০টি ইটভাটা রয়েছে।এসব ইট ভাটায় কাজ করেছেন হাজার শ্রমিক।এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম।ইটভাটায় ইট উৎপাদন বন্ধ হলে সমতল জেলা থেকে অধিক মূল্যে পরিবহন করা ইট দিয়ে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন পরবে হুমকির মুখে।সংশ্লিষ্টরা বলছে এইভাবে উন্নয়ন কাজগুলো করা সম্ভব নয়।ইটের বিকল্প এখনো কিছু গড়ে উঠেনি।গত ৫ আগষ্ট সরকারের পট পরিবর্তনের পরে অন্তবর্তীকালিন সরকারের পরিবেশ,বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করতে হবে। পরিবেশ বান্ধব ব্লক ইট তৈরি করার নির্দেশনাও দেয়া হয়।পার্বত্য জেলায় কোনওভাবেই ইট ভাটা করতে দেয়া হবে না বলেও জানানো হয়।এমন সিদ্ধান্তে ইট ভাটা বন্ধ হলে এর প্রভাব পরবে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজসহ জেলায় চলমান থাকা হাজার কোটি টাকার সরকারী-বেসরকারী উন্নয়ন কাজগুলোতে।এতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন বঞ্চিত হবে এই জেলার উন্নয়ন কাজের সুফলভোগকারী লাখো জনগন।শত কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হবে ইটভাটা মালিকরা।এতে বেকার হয়ে পড়বে এ পেশায় নিয়োজিত অর্ধ লাখের মতো শ্রমিক।তাই স্থানীয় বিভিন্ন মহল থেকে জোরালো দাবি উঠেছে আগামী ৬ মাস পর্য্যন্ত ইটভাটা চালুর রাখার।এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ইতিমধ্যেহ ব্যবস্থা গ্রহনে পরিবেশ,বন ও জলবায়ু উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষন ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলার ঠিকাদার,নির্মাণ শ্রমিক,ইটভাটা ও পরিবহন সমিতির নেতৃবৃন্দসহ পার্বত্যবাসী।এ বিষয়ে ইট ভাটা মালিক মো.খোরশেদ আজমসহ ইটভাটা মালিকরা বলেন,ইটভাটা স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে হলে একটি যৌক্তিক সময়ের প্রয়োজন আছে।প্রতি বছর ভ্যাট ট্যাক্স ও জমির উন্নয়ন কর সহ প্রায় ১০ লাখ টাকা হারে সরকারী কোষাগারে জমা করেন প্রতিটি ভাটার মালিকরা।ইটভাটা মালিকরা প্রশ্ন তুলে বলছেন,পাশ্ববর্তী জেলায় ইটভাটা করতে পারলে আমরা কেনও করতে পারবো না? ইটভাটা মালিকদের বাঁচাতে আমাদের অন্তত আগামী ছয় মাসের জন্য ইটভাটা করার অনুমতি দেয়ার জন্য পরিবেশ,বন ও জলবায়ু উপদেষ্টার নিকট বিনয়ের সহিত জোর দাবী জানাচ্ছি।মালিকরা বলছেন, অন্তত ৬ (ছয়) মাসও যদি স্থানান্তরের সময় দিয়ে চলমান উন্নযন কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ পাওয়া যায় বড় অংকের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতো ইটভাটার মালিকরা।ইট ভাটা বন্ধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বেশ কয়েকটি ভাটায় মজুদ থাকা ইটের দাম কয়েক হাজার টাকা বেড়ে গেছে বলেও জানিয়েছে ঠিকাদাররা।এতে সরকারি উন্নয়ন সংস্থা এর প্রক্রিয়াধীন টেন্ডারের কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে তা প্রভাব বিস্তার করবে এমনটাই আশংকা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে ইটভাটায় নিয়োজিত শ্রমিকরা জানিয়েছেন,প্রতি বছরের মত চলতি বছরও ভাটা মালিক থেকে আগাম টাকা করে নিয়ে পরিবারের জন্য খরচ করেছি।এখন ভাটা বন্ধ থাকলে দেনার দায়ে পালিয়ে বেড়ানো ছাড়া আর কোন উপায় আমাদের থাকবে না।আমরা ভাটা চালুর দাবী জানাই।

Facebook
WhatsApp
Email
Telegram
LinkedIn
Twitter