চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদেশি জাহাজ ‘এইচজি সিডনি’ একটি লাইটার জাহাজকে সরাসরি এসে আঘাত করেছে। এতে ১০ কোটি টাকার লাইটার জাহাজের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত অবকাঠামো নষ্ট হয়েছে। সৌভাগ্যবশত জাহাজটি তাৎক্ষণিক সাগরে ডুবে যায়নি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় এই ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো নাবিক আহত হননি।
পানামার পতাকাবাহি ‘এপিজে শিরিন’ ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে বহির্নোঙরে পৌঁছে ২২ সেপ্টেম্বর। সেই জাহাজ থেকে কয়লা নামিয়ে রাখা হচ্ছিল লাইটার জাহাজ ‘এমভি সানি-৫’তে। এই দুটি জাহাজই পাশাপাশি ছিল। সকাল ৯টার দিকে দূর থেকে প্রবল গতিতে আসছিল বিদেশি জাহাজ ‘এইচজি সিডনি’। জাহজিটি ৫১ হাজার টন সয়াবিন বীজ নিয়ে ব্রাজিল থেকে কুতুবদিয়া এলাকার সাগরে পৌঁছে ২৬ সেপ্টেম্বর।
মঙ্গলবার সকালে জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছার আগেই প্রচণ্ড গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে লাইটার জাহাজ ‘এমভি সানি-৫’তে সরাসরি আঘাত করে। এতে জাহাজের সামনের অংশ মুচড়ে যায়। পানির নিচে থাকা অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লাইটার জাহাজে আঘাত না করলে পুরো গতি সরাসরি ‘এপিজে শিরিন’ এর গায়ে পড়তো।
সরকারের নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রধান প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানালেন, দুর্ঘটনার খবর আমি জেনেছি। তদন্ত কমিটি গঠন করে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে যাচাই করা হবে। এ অবস্থায় ক্ষতিপুরণ দাবি করে ‘এইচজি সিডনি’ জাহাজের শিপিং এজেন্ট লিটমন্ড শিপিংকে চিঠি দিয়েছে লাইটার জাহাজ ‘এমভি সানি-৫’ এর মালিক ঢাকাস্থ হোসাইন এন্টারপ্রাইজ।
প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার জগন্নাথ কুন্ডু বাপ্পি জানালেন, এমনভাবে আঘাত লেগেছে জাহাজের ওপর থেকে নিচের অংশের সুপার স্ট্রাকচার পর্যন্ত নষ্ট হয়েছে। প্রায় ২৫শ’ টন পরিবহন সক্ষমতার ১০ কোটি টাকার দামের এই জাহাজ কদিন আগে ১ কোটি টাকা খরচ করে ডকিং বা মেরামত করা হয়েছে। ডকিং শেষে এটি প্রথম ট্রিপ ছিল তার আগেই দুর্ঘটনা ঘটল। আমরা যৌথ জরিপের মাধ্যমে ক্ষতি নিরুপণের চিঠি দিয়েছি কিন্তু লিটমন্ড শিপিং আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি। পরে অফিসিয়াল ই-মেইলে আমরা তাদের জানিয়েছি।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজ নিয়ন্ত্রণ এবং বাল্ক শিপিং লাইনে বেশ প্রভাবশালী লিটমন্ড শিপিংয়ের মালিক বেলায়েত হোসেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি জানালেন, চলতে গেলে এমন দুর্ঘটনা তো হয়। ক্ষয়ক্ষতি হলে পিএন্ডআই ক্লাব সেটি নির্ধারণ করবে।‘এইচজি সিডনি’ জাহাজে ৫১ হাজার টন সয়াবিন বোঝাই করে এনেছে বাংলাদেশি আমদানিকারক গ্লোব এডিবল অয়েল। আর সেই জাহাজ কুতুবদিয়া থেকে চালিয়ে আনছিল ভাড়া করা অদক্ষ পাইলট। এরাই বারবার দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। আর ‘এপিজে শিরিন’ জাহাজ ৫৫ হাজার টন কয়লা এনেছে কিউএনএস শিপিং লজিস্টিক লিমিটেড।





