বানিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও মোড়ে মোড়ে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের তল্লাশি ও নজরদারি চালাতে বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্টও। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে গভীর রাতে বাসে আগুন, সড়ক ও রেললাইনে টায়ার জ্বালিয়ে দেওয়া, ভূমি কার্যালয়ের সাইনবোর্ডে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে আগুন দিয়ে দুর্বৃত্তরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এজন্য কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত সেটা পুলিশ নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি।
এদিকে সোমবার সকাল থেকে নগরের শাহ আমানত সড়ক, সিটি গেট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, কাজীর দেউড়ি, কোতোয়ালী ও আগ্রাবাদ এলাকায় বিশেষ নজরদারি রেখেছে পুলিশ। এছাড়া পেট্টোলিং টিমের মাধ্যমে নজরদারি রাখছে র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী।
নগরের সিটি গেট থেকে কাজীর দেউড়ি মোড় ঘুরে দেখা যায়, শহরে যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত করতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পেট্টোলিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
এ নিয়ে র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, নগরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের ১০টি পেট্টোলিং টিম কাজ করছে। এছাড়া গোয়েন্দা তথ্য ও এসেসমেন্ট অনুযায়ী চেক পোস্ট বসানোর যদি প্রয়োজন হয় তাও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো শঙ্কা দেখছি না।
সিএমপির জনসংযোগ শাখার সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, শহরে জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে মাঠে রয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য। নিরাপত্তা জোরদার রাখার কারণে জনসাধারণ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে চলাচল করতে পারে, তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে রোববার গভীর রাতে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। বাসে আগুন, সড়ক ও রেললাইনে টায়ার জ্বালিয়ে দেয়া, ভূমি কার্যালয়ের সাইনবোর্ডে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এজন্য কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত সেটা পুলিশ নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি।তবে সাময়িক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে এসব ঘটানো হয়েছে বলে ‘কৃতিত্ব’ দাবি করে ফেসবুকে সরব হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, রোববার (১৬ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ২ টার দিকে নগরীর পতেঙ্গা থানার জিএম প্ল্যান্টের দ্বিতীয় গেটের সামনে রাস্তার ওপর রাখা একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ঘটনার সময় বাসে কেউ ছিলেন না। এর ফলে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দিন বলেন, বাসটি রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা ছিল। দুইজন দুর্বৃত্ত এসে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এটা পুরনো একটা বাস। আগুনে বাসের সিট এবং কিছু যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। লাখখানেক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কারা আগুন দিল, সেটা আমরা এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এছাড়া নগরীর কোতোয়ালী থানার চট্টেশ্বরী রোডে গত (রোববার) রাতে জেলা প্রশাসনের সদর সার্কেল ভূমি অফিসের সাইনবোর্ডে এক যুবকের আগুন লাগানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সাইনবোর্ডটি পুড়ে গেলেও কার্যালয়ের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
জেলা প্রশাসনের বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনিয়া হক বলেন, আমরাও ভিডিওতে দেখেছি সাইনবোর্ডে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে ভেতরে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট এলাকায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে এবং চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রুটে রেললাইনে আগুন ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ আগুন নিভিয়ে ও গাছের গুঁড়ি সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ভোর ৪টার দিকে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পাশে রেললাইনেও গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখে তারা। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে সেগুলো সরিয়ে ট্রেন ও যানবাহন যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করেছি।



