বিএনপির চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নিকট এ দেশের সচেতন নাগরিক এবং জাতীয়তাবাদী পরিবারের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে গণ মানুষের পক্ষ থেকে একটি নিবেদন—
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুজন দেশপ্রেমিক এবং সফল রাষ্ট্রনায়কের সন্তান এবং নিজেও একজন নির্যাতিত ও জনপ্রিয় মানুষ। আমি জানি, বাবা-মায়ের মতো আপনিও একজন দেশপ্রেমিক এবং তীক্ষ্ণ মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ। আপনাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে দুঃসাহস আমার নেই। তারপরও যেটা বাস্তব সে কথাটা বলতেই হবে। কারণ এটা শুধু আমার কথা নয়, এটা এদেশের সাধারণ সচেতন জনগণ এবং জাতীয়তাবাদী পরিবারের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী, শহীদ জিয়া, মরহুমা খালেদা জিয়া সর্বোপরি আপনার অনুসারীদের মনের কথা বলে আমি মনে করি। ইতিমধ্যে হয়তো অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অথবা বিভিন্ন মাধ্যমে আপনার দৃষ্টিগোচর করতে সক্ষম হয়েছে। তারপরও আমার ব্যক্তিগত এবং জনগণের আলোচনা থেকে আপনাকে আবারও বলতে চাই-
আপনি জানেন আপনার বাবা একজন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রথম সফল রূপকার, খাঁটি মুসলমান এবং ফরহেজগার একজন মানুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
দেশ এবং মানুষের জন্য স্বাভাবিকভাবে সর্বত্র বিচরণ করতেন তিনি। মানুষের সাথে সহজে আলিঙ্গন করতেন, কারণ উনার ছিল এদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। তিনি ছিলেন অতি আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উনাকে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়েছে!!!
পরবর্তীতে আপনার প্রিয় গর্ভধারিণী মা তিনিও ছিলেন খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং আত্মবিশ্বাসী, মা-মাটি-মানুষের নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। যিনি জীবনের অধিকাংশ সময় নির্যাতিত, নিপীড়িত একজন আপসহীন খাঁটি মানুষ। বিগত স্বৈরশাসকের রোষানলে পড়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে পৃথিবী থেকে নিদারুণ কষ্টের মাধ্যমে তিনি বিদায় নিয়েছেন। দেশের মানুষ এবং বিশ্বমন্ডলে উনি ছিলেন একজন সমাদৃত ব্যক্তি। উনি দেশ, মাটি ও মানুষের জন্য অনেক নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। কিন্তু নিজ চোখে তার, তার দলের এবং জনগণের বিজয় ভালোভাবে উপভোগ করতে পারেননি।
এবার আসি আপনার কথায়। আপনিও বাবা মায়ের মতো একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক মানুষ। আপনি যে জনগণকে ভালোবাসতে গিয়ে সাদাসিধে ভাবে জনতার মাঝে নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে সমাজের বিভিন্ন সুবিধা বঞ্চিত, গরীব, অসহায় মানুষের মধ্যে মিশে যান, এতে আপনার মধ্যে উদারতা এবং মানবতার পরিচয় যেভাবে পাওয়া যায়, আবার আপনার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে পড়ে বলে আমি এবং আমরা সাধারণ জনগণ সবসময় সংকিত থাকি। এর কারণ নিশ্চয়ই আপনার পিতা-মাতা সহ বাংলাদেশের ইতিহাস এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনৈতিক দলের প্রধানদের মর্মান্তিক ঘটনাবলী সম্পর্কে আপনি নিশ্চয়ই ওয়াকিবহাল।
আপনার কাছে আমিসহ দল, এবং এদেশের গণমানুষের দাবি, আপনি নিরাপত্তার বিষয়ে একটু আপনার নিজের মেধা মনন বিবেচনা করে সতর্ক থাকা খুবই প্রয়োজন।
আরও বিগত পতিত স্বৈরাচার, বিরোধীদলীয় জোট এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে চলছে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতি। এছাড়াও বর্তমান সরকারের প্রশাসনের মধ্যে বিগত ১৭ বছরের দোসর অনেকেই ঘাপটি মেরে বসে আছে। এ বিষয়গুলো বর্তমান সরকারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আমরা সচেতন জনগণ বিশ্বাস করতে পারছি না। এসকল ঘাপটি মারা জঞ্জাল মুক্ত করতে আপনাকে এবং আপনার মন্ত্রী পরিষদকে আরও অধিক সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত কথা নয়, এটা এদেশের মাঠ, ঘাট, হাট, বাজার, দোকান, মার্কেট, গ্রাম, শহর সর্বোপরি আপামর জনগণের আলোচনা এবং মনের কথা। আপনি একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অবশ্যই আপনার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আছে, যে নিরাপত্তা এবং প্রটোকল টিমে মেধা ও যোগ্যতা সম্পন্ন লোক আছে। তারপরও এ বিষয়গুলো সব সময় বিবেচনায় রাখা আমদা জনগণ উপলব্ধি এবং প্রত্যাশা করি।
পরিশেষে আরেকটি কথা বলি, আপনি যদি সাধারণ যেকোনো মানুষের সাথে অবাধে মিশতে চান এবং মানুষের জন্য কাজ করতে চান, তাহলে নির্ধারিত নিরাপত্তার মধ্যে থেকে, যে ব্যক্তির দিকে আপনার নজর পড়বে, আপনি আপনার সহযোগী এবং বিশ্বস্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের মাধ্যমে ডেকে এনে ঐ অসহায় মানুষটির কথা শুনুন, মিশুন এবং তার জন্য যতটুকু করা প্রয়োজন ততটুকু করার অনুরোধ করছি।
যদি আপনি এবং আপনার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং উপদেষ্টাগণ মনে করেন তাহলে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার সময় আপনার নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াও প্রয়োজনে বিগত ১৭ বছর ফোঁড় খাওয়া এবং বিশ্বস্থ নেতাকর্মীদের কাজে লাগাতে পারেন। যা আপনি ২০০১ সাথে থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার জন্য CSF নামে একটি নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। (সে আদলেই উদীয়মান নেতাকর্মীদের দিয়ে একটি নিরাপত্তা দল গঠন করা যেতে পারে) যদি আপনার এবং আপনার সহযোগীদের বিচার বিশ্লেষণের মধ্যে যৌক্তিক মনে হয়।
সর্বশেষ কথা হলো, বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আপনাকে এ জাতির খুবই প্রয়োজন। কারণ আপনি শহিদ জিয়া এবং মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি। অতএব, আপনাকে রাষ্ট্রীয় এবং দলীয় নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থেকে এদেশের মানুষের জন্য কাজ করা প্রয়োজন। আপনার নিরাপত্তা এখন এ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা।
এ জাতির স্বার্থে মহান রাব্বুল আল আমীন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে আপনাকে সময় উপযোগী দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
মহান রবই আপনাকে হেফাজত করুন। বোঝার এবং মানার তৌফিক দান করুন, সার্বক্ষণিক এ দোয়া কামনা করি।
মোঃ হুমায়ুন কবির চৌধুরী
সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী যুবদল, কেন্দ্রীয় সংসদ





