লক্ষ্মীপুরের অন্যতম প্রাচীন জমিদার বাড়ি দালাল বাজারস্হ জমিদার বাড়ি। দালাল বাজার সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে লক্ষ্মীপুর মৌজায় অবস্থিত প্রাচীন এই জমিদার বাড়িকে ঘিরে মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। পাঁচ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত রাজ গেইট, জমিদার প্রসাদ, অন্দর মহল, অন্দর পুকুর, শান বাঁধানো ঘাট এ সবই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
জানা যায়, লক্ষ্মীনারায়ন নামে জনৈক ব্যক্তি কাপড়ের ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে দালাল বাজার আসেন। তার পুত্র ব্রজবল্লভ স্বীয় দক্ষতা গুণে ব্যবসার প্রসার ঘটান। ব্রজবল্লভ পুত্র গৌরকিশোর কলিকাতায় লেখাপড়ার সুবাদে ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানীর সহচর্যে আসেন এবং জমিদারী খরিদ করেন। গৌরকিশোর ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে রাজা উপাধী লাভ করে। গৌরকিশোর রায় ও রাণী লক্ষ্মী প্রিয়া ছিলেন নি:সন্তান। তারা ঢাকার বিক্রমপুর থেকে গোবিন্দকিশোরকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করে। গোবিন্দ কিশোর পুত্র নলীনি কিশোর রায় চৌধুরী তাদের জমিদারীর খাজনা আদায়, তদারকী ও প্রসারে দক্ষতার পরিচয় দেয়। দালাল বাজার এন.কে উচ্চ বিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয়, ঠাকুর মন্দির এ পরিবারের অবদান। জমির বাড়ির প্রাচীর, অন্দর মহল, নির্মাণ সামগ্রী বিশেষ করে কয়েকটন ওজনের লোহার ভীম, বিরাটাকার লোহার সিন্দুক, নৃত্যশালা, বহিরাঙ্গণ, সবি জরাজীর্ণ কারও মাথার ছাঁদ নেই জীর্ণশীর্ণ ইটের দেওয়াল গুলো দাঁড়িয়ে আছে কালের স্বাক্ষী হয়ে। তবুও এই জমিদার বাড়ি দেখতে আজো মানুষ দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে।
রাজবাড়ীর মুল ফটকে দালাল বাজার পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও নেই দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেই কোন পার্কিং ও পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের দাবি লক্ষীপুর তথা বাংলাদেশের মুল্যবান এই পুরাকীর্তিকে সরকার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় রক্ষনাবেক্ষন করলে লক্ষীপুর ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও পর্যটন প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।





